বিজ্ঞানী লর্ড উইলিয়াম টমসন কেলভিন


বিজ্ঞানী লর্ড উইলিয়াম টমসন কেলভিন

Someone_2009_1282850870_6-cathtube

বিজ্ঞান আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে সহজ ও ¯^v”Q›`¨gq করে তুলেছে। ‘পরম স্কেল’ ও ‘গ্যাস তরলীকরণ সূত্র’ কে আবিষ্কার করেছেন? এই আবিষ্কারক বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে তিনি একটি পরিচিত নাম। তিনি
পদার্থবিদ্যার অনেকগুলো আবিষ্কারের সহিত যুক্ত। বেশকিছু মূল্যবান গ্রন্থের তিনি
রচয়িতা। তিনি হচ্ছেন উইলিয়াম টমসন কেলভিন

অন্যতম অবদানসমূহ ঃ

১. পরম স্কেল।

২. গ্যাস তরলীকরণ সূত্র।

৩. নৌ-চালনা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ‘টাইডাল অ্যানালাইজার’ এবং ‘টাইডাল প্রেডিক্‌টর’ আবিষ্কার।

৪. সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্র ‘ফ্যাদমিটার’ আবিষ্কার।

 

এই বিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৪
খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন স্কটল্যান্ডের বেলফাস্টে। তাঁর পিতা জেমস টমসন
ছিলেন গণিতের অধ্যাপক। সঙ্গত কারণে কেলভিন পিতার নিকট হতে গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার
যথেষ্ট অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন।

 

বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে টমাস কেলভিন উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবাক
করা বিষয় হচ্ছে তিনি মাত্র সতের বছর বয়সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর
উচ্চতর গণিত অধ্যায়ন ও গবেষণার জন্য ভর্তি হন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন শেষ করলেন। সে সময় ফ্রান্স ছিল আধুনিক বিজ্ঞান
চর্চার একটা বড় কেন্দ্রস্থল। বিজ্ঞান চর্চার উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করলেন ফ্রান্সে। সেখানকার
বিভিন্ন গবেষণাগারে গবেষণায় নিয়োজিত হলেন। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে ¯^‡`‡k প্রত্যাবর্তন করলেন। ঠিক সেই সময় গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে
পদার্থবিদ্যার অধ্যাপকের পদ খালি ছিল। কেলভিনের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ তাঁকে উক্ত পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করলেন। কেলভিন এতে সম্মত হলেন। প্রায়
অর্ধশতাব্দির অধিককাল কেলভিন এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

 

কেলভিন অমর হয়ে আছেন তাপ-গতিবিদ্যায় তাঁর মূল্যবান অবদানের জন্য। উষ্ণতা
পরিমাপের জন্য যে ‘অ্যাবসলিউট স্কেল’ বা ‘পরম স্কেল’ ব্যবহার করা হয় তার আবিষ্কারক কেলভিন। এই স্কেলকে কখনো কখনো বলা হয়
‘কেলভিন স্কেল’। আর পরম স্কেলের কল্পনা করে তাপগতিবিদ্যার
দ্বিতীয় সূত্রটিকে তিনি সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করতে পেরেছিলেন। তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন, থার্মোডাইনামিকস বা তাপগতিবিদ্যার সাহায্যে এমন একটা স্কেল কল্পনা করা যেতে পারে, যা কোন পদার্থের কোন বিশেষ ধর্মের উপর নির্ভর করবে না। সেই কল্পনা থেকেই পরম স্কেলের
সৃষ্টি হয়।

 

পদার্থবিদ্যায় কেলভিনের দ্বিতীয় অবদান হচ্ছে, গ্যাস তরলীকরণের সূত্র আবিষ্কার। সূত্রটি
জেমস প্রেসকট জুল ও টমসন কেলভিন উভয়ে যুগ্মভাবে আবিষ্কার করেছিলেন। তাই এই
সূত্রটি ‘জুল-টমসন এফেক্ট’ বা ‘জুল-কেলভিন এফেক্ট’ নামে পরিচিত। তাঁদের আবিষকৃত পদ্ধতির সাহায্যে বায়ু, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন প্রভৃতি এককালের
স্থায়ী গ্যাসরূপে চিহ্নিত গ্যাসগুলোকে তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে।

 

আলোকবিদ্যা বিশেষত আলোকের Zwor-‡PŠ¤^K ধর্ম
mš^‡Ü কেলভিন দীর্ঘকাল গবেষণা করেছিলেন। তাঁর সময় আটলান্টিক মহাসাগরের
তলদেশে টেলিগ্রাফের তার স্থাপনের জন্য একটা সংস্থা গঠন করা হয়েছিল। আর কেলভিন
ছিলেন সেই সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা। উক্ত কাজে যথেষ্ট অসুবিধা হওয়ায় কেলভিন আবিষ্কার করেছিলেন
গ্যালভানোমিটার। এছাড়া তিনি নৌ-চালনা সংক্রান্ত বিবিধ-যন্ত্রপাতিও আবিষ্কার করে গেছেন। সেগুলোর
মধ্যে ‘টাইডাল অ্যানালাইজার’ এবং ‘টাইডাল প্রেডিকটর’ নামক দুটো উল্লেখযোগ্য যন্ত্র। তাছাড়া সমুদ্রের গভীরতা মাপার জন্য ‘ফ্যাদমিটার’ আবিষ্কার করেন।

 

বিজ্ঞানী কেলভিনের মূল্যবান গবেষণাগুলোর অধিকাংশই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে
১৮৮২ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ৬ খন্ডে ‘ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল পেপারস’, ১৮৮৯ সাল থেকে ১৮৯৪ সালের মধ্যে ৩ খন্ডে প্রকাশিত ‘পপুলার লেকচারস অ্যান্ড অ্যাড্রেসেজ’, ১৮৯৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত ‘মলিকিউলার ট্যাকটিকস অফ এ ক্রিস্ট্যাল’ প্রভৃতি গ্রন্থ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

 

কেলভিন ১৮৯৬ সালে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই সন্মানজনক
পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই মহান শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন ১৯০৭ সালের ১৭
মৃত্যুবরণ করেন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s