জানতে চান কে দেখল আপনার ফেসবুক প্রোফাইল


জানতে চান কে দেখল আপনার ফেসবুক প্রোফাইল

আপনার ফেসবুক প্রোফাইল কে দেখল, তা কি বের করতে চান? কিংবা কয়জন আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুঁ মারল বা সর্বশেষ আপলোড করা ছবিটি কারা দেখল, সেটি জানতে চান? ফেসবুক লাইক, শেয়ার, ইমোশন, মন্তব্য দেখার সুযোগ দেয়, কিন্তু কারা প্রোফাইল দেখে গেল, সেটি জানার সুযোগ দেয় না। কিছু কিছু অ্যাপ ব্যবহার করে অনেকে সেটি বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাপের সে ফল ঠিকঠাক হয় না। সহজ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করলেই জেনে যাবেন আপনার ফেসবুক প্রোফাইল কে দেখল Continue reading

Advertisements

বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন


বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন

বিজ্ঞানীদের-অজানা-কাহিনী1

[১৮৪৭-১৯৩১]

 

আমরা হয়তো এমন একজনের নাম শুনে
থাকবো। যিনি পারিপার্শ্বিক অনেক কিছু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা করতেন। একবার
তিনি মুরগির মতো ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করবার উদ্দেশ্যে ঘরের এক কোণে ডিম সাজিয়ে বসে
পড়লেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে তাঁর মৃত্যুর Continue reading

বিজ্ঞানী আবদুস সালাম


বিজ্ঞানী আবদুস সালাম

2015_06_25_07_14_17_eCNRxuQmzAOJCqJ2Q1qQ180GAKdZ9w_original

১৯২৬-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ]

 

বিজ্ঞানের বিশাল জগতে পদার্থ বিজ্ঞানের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আর পদার্থ বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় যেসব বিজ্ঞানী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের অধ্যাপক আবদুস সালাম অন্যতম। বিশ্ববাসীর কাছে এ তথ্য প্রচলিত হল ‘সুইডিশ একাডেমী  আর সায়েন্স’ যেদিন ১৯৭৯ সালে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করলেন। পদার্থ বিজ্ঞানে যে তিনজন নোবেল পুরস্কার পান বিজ্ঞানী আবদুস সালাম তাঁদেরই একজন।

 

অন্যতম অবদানসমূহ ঃ

১. নিরপেক্ষ তড়িৎ’ তত্ত্ব আবিষ্কার

২. ১৯৭৯ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ
বিজ্ঞানী আবদুস সালাম জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ খ্রীস্টাব্দ পাকিস্তানের লাহোর শহরের দু’শ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ‘ঝাঙ’ নামক শহরে। তাঁর বাবা চৌধুরী মুহম্মদ হোসেন ছিলেন একটা সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক। কিছুদিন পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে শিক্ষা বিভাগের জেলা বোর্ড অফিসে প্রধান করণিক হিসেবে যোগ দেন।

 

ছোটবেলায় তিনি লেখাপড়ায় ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। চার বছর না পেরোতেই প্রচুর কবিতা মুখস্ত করেছিলেন। ইসলামের ইতিহাসের অনেক কাহিনী বলে যেতে পারতেন। কোরান শরীফ মুখস্ত বলতেন না দেখে। স্কুল-কলেজে তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বলা যায় সেসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিলেন। তিনিই প্রথম পাকিস্তানী যিনি নোবেল পুরস্কার পান।

পদার্থ বিজ্ঞানী আবদুস সালামের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষ করে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিবেন। কিন্তু সে ইচ্ছে আর পূরণ হলো না। লাহোর থেকে অঙ্কশাস্ত্রে এম.এ সম্পন্ন করে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভের সময় তিনি ডিরাক প্রমুখ প্রখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীদের শিক্ষাগুরু হিসেবে পান। সালামের মধ্যে অনন্য প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে বুঝতে পেরে ডিরাক তাকে পদার্থ বিজ্ঞানী হবার জন্য উৎসাহিত করেন। আবদুস সালাম সহসা তাঁর ইচ্ছা পরিবর্তন করেন। একত্রিশ বছর বয়স হবার পূর্বেই বিজ্ঞানী আবদুস সালাম রয়াল সোসাইটির সভ্য মনোনীত হন। ১৯৫৭ সালে তিনি লন্ডনের  ইস্পিটরিয়াল কলেজ অর সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ইতালির ত্রিয়োস্তেতে অবস্থিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার  থিওবেটিক্যাল ফিজিক্স এর ডিরেক্টর। মূলত তার উদ্যোগে এই বিশিষ্ট গবেষণা কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে।

 

১৯৭৯ সালে বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম ও অপর দু’জন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী যথাক্রমে অধ্যাপক স্টিভেন ভিনুবার্গ, অধ্যাপক শেলডান এল গ্লাশো সম্মিলিতভাবে নোবেল পুরস্কার পান। পদার্থবিজ্ঞানে যে অনন্য সাধারণ কাজের জন্য এই তিন পদার্থবিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়, বিজ্ঞানীদের ভাষায় তা ’ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি’ একক ক্ষেত্রতত্ত্ব নামে পরিচিত।

 

পদার্থবিজ্ঞানীদের অভিমত, বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে বস্তুকণা থেকে আরম্ভ করে গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদির সৃষ্টি, রূপান্তর ও কার্যকলাপের মূলে আছে চার রকম মৌলিক বল বা ফোর্স। প্রথমটি হচ্ছে মহাকর্ষ বল, দ্বিতীয়টি স্ট্রং ফোর্স বা প্রবল বল, তৃতীয়টি তড়িৎ †PŠ¤^K বল এবং চতুর্থটি ’উইক ফোর্স’ বা মৃদু বল।

 

এই চারটি বলে পৃথক সত্তা আছে বলে ধারণা করা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা ভিন্ন রকম। এই চার রকম বলের উৎস আসলে একই। প্রত্যেক রকম বলের প্রভাব এক একটি নির্দিষ্ট গন্ডীর বা ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন থেকে শুরু করে পরবর্তীকালের অনেক প্রখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীই এই চার রকম বলের ক্ষেত্রের মধ্যে একটা mgš^q সাধনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, তাঁদের সবারই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল একটাই, সেটা হচ্ছে এমন একটি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা যার দ্বারা প্রমাণিত হবে একই সত্তায় চতুর্থমুখী প্রকাশ। আর এই তত্ত্বটিকেই বিজ্ঞানীরা আখ্যা দিয়েছেন “ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি বা একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্ব”। এই প্রচেষ্টায় সবাই সফল না হলেও বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম এবং তাঁর সতীর্থ দুই মার্কিন বিজ্ঞানী আংশিক সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হন। এই অসামান্য কৃতিত্বের ¯^xK…wZ¯^iƒc এরা তিনজন একত্রে সম্মানিত হয়েছেন নোবেল পুরস্কারে। বিজ্ঞানী আব্দুস সালামের আর একটি কৃতিত্ব হচ্ছে ‘ওমেগামাইনাস’ নামে এক রকম মৌলকণা আবিষ্কার।

 

১৯৮১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বার্ষিক সমাবর্তন উৎসবে ভাষণ দেবার জন্য অধ্যাপক আব্দুস সালামকে আমন্ত্রণ জানান হয়। তিনি এতে একটি শর্তারোপ করেন। আর সেটি হচ্ছে তাঁর শিক্ষাগুরু অধ্যাপক শ্রী অনিলেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সম্মানিত করা। শিক্ষাগুরুকে সম্মানিত করার পর বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম কলকাতায় আসেন।

 

বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে আক্রান্ত হন পারকিনসন রোগে। আর এই রোগেই তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৯৬ সালের ২১ b‡f¤^i| আমরা হারিয়েছি একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীকে

বাষ্পীয় ইঞ্জিন


বাষ্পীয় ইঞ্জিন

wold-fastest-steam-train

বিশ্বে বাষ্পীয় ইঞ্জিন এক নবযাত্রার সূচনা করেছিল। শিল্প বিপ্লবের
ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। রেলগাড়িতে প্রথম যে ইঞ্জিন
ব্যবহৃত হয়েছিল তা হচ্ছে বাষ্পীয় ইঞ্জিন। কিন্তু কিভাবে আবিষ্কৃত হলো এই
বাষ্পীয় ইঞ্জিন।

স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ওয়াট এই বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারক। তাঁর মধ্যে
বিদ্যমান ছিল এক উদ্ভাবনী ক্ষমতা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে
শিক্ষাকালীন সময়ে বাষ্পীয় ইঞ্জিন এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। জেমস ওয়াট
১৭৬৪ সালে টমাস নিউকমেন এর উদ্ভাবিত ইঞ্জিন মেরামত করা পর্যবেক্ষণ করেন।
এই থেকে তাঁর মধ্যে আরো উন্নত ইঞ্জিন উদ্ভাবনের চিন্তা মাথায় আসে। ১৭৬৯
সালে তিনি প্রথম বাষ্পীয় ইঞ্জিন পেটেন্ট করান। সেই ইঞ্জিনে স্বতন্ত্র
কনডেন্সিং চেম্বার এবং স্টিম সিলিন্ডার ছিল। এরপর ১৭৮২ সালে তিনি দ্বিগুণ
ক্ষমতা সম্পন্ন বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

বিজ্ঞানী জেমস ওয়াট সিলিন্ডারকে বারবার উত্তপ্ত ও ঠান্ডা করার
প্রক্রিয়ার মধ্যে সনাতন ইঞ্জিনের মাত্রাতিরিক্ত শক্তিক্ষয়ের ব্যাপারটি
বুঝতে পেরেছিলেন। বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগে কুশলী জেমস
ওয়াট উন্নততর পৃথক কনডেন্সার প্রবর্তন করেন। ফলে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের
কার্যকারিতা বেড়ে যায় এবং খরচ কমে আসে

বিজ্ঞানী জেমস ওয়াট


বিজ্ঞানী জেমস ওয়াট

kobid_58939322952db5edac67ee0.73126855_xlarge

বিজ্ঞান আজ আমাদের পৌঁছে দিয়েছে এক আধুনিক উৎকর্ষতার যুগে। হয়তো
আমরা অনেকে জানি না আধুনিক স্টীম ইঞ্জিনের আবিষ্কারক কে? তিনি হচ্ছেন
স্কটিশ পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ওয়াট। তিনি শিল্প সংক্রান্ত বিপ্লবের ক্ষেত্রে
ছিলেন প্রধান চরিত্র।

বিজ্ঞানীর জীবনে মজার ঘটনা
জেমস ওয়াটের বাবা ছিল একজন ঠিকাদার ও জাহাজ ব্যবসায়ী। মজার কথা, স্কুলের
পড়াশুনায় তার তেমন আগ্রহ ছিল না। অর্থাৎ তিনি নিয়মিত স্কুলে যেতেন না।
বেশিরভাগ সময় তাঁকে বাড়ীতে মায়ের কাছেই পড়াশুনা করতে হতো। কিন্তু স্কুলের
পড়াশুনা আগ্রহ না থাকলেও গণিতে ছিল তাঁর বিশেষ দক্ষতা। কে জানতো পরবর্তীতে
এই জেমস ওয়াট বিজ্ঞানের আবিষ্কারে পৃথিবীকে অবাক করে দিবে।

 

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

 

নাম- জেমস ওয়াট ।
জন্ম-১৯ জানুয়ারী ১৭৩৬ এবং মৃত্যু-২৫ আগস্ট ১৮১৯।
বাসস্থান- গ্রিনক, রেনফ্রশায়ার, স্কটল্যান্ড, জাতীয়তা-স্কটিশ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- গ্রিননক গ্রামার স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো।

 

জেমস ওয়াট ছিলেন সহজাত উদ্ভাবনীয় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি টমাস
নিউকমেন-এর ইঞ্জিন পর্যবেক্ষণ করে আরো উন্নত ও আধুনিক ইঞ্জিন তৈরির
পরিকল্পনা করে ফেলেন। ১৭৬৯ সালে তিনি নিজের প্রথম বাষ্পীয় ইঞ্জিন পেটেন্ট
করান। আলাদা কনডেন্সিং চেম্বার এবং স্টীম সিলিন্ডারও ছিল সেটার। এরপর ১৭৮২
সালে তিনি উদ্ভাবন করলেন ডবল অ্যাকশন ইঞ্জিন। পরে এটি আরো উন্নত ইঞ্জিনে
রূপান্তরিত করা হয়।

 

জেমস ওয়াট এর আগে ১৭৮১ সালে গিয়ার, ১৭৮৮ সালে সেন্ট্রিফিউগাল
(অপসরণশীল) পাম্প এবং ১৭৯০ সালে প্রেশার গজ (চাপ মাপক যন্ত্র), কাউন্টার,
ইন্ডিকেটর, থ্রটল, ভালভ্ ইত্যাদি আবিষ্কার করেন। ১৭৭৫ সালে তিনি ম্যাথিউ
বলটন নামে ইঞ্জিনিয়ারের সহিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর পরের বছর
দুজনে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন।

 

বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের কয়েকটি পর্যায় ছিল। জেমস ওয়াটের পূর্বে আরো
কয়েকজন যে সব ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু তার কোনটাই এককভাবে শিল্প
বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। সেক্ষেত্রে
বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিনের অবদান অগ্রগণ্য। এটি শিল্প
বিপ্লবের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করে।

কলকারখানা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিনের
ব্যবহার করা হয়। ১৭৮৩ সালে এই স্টিম ইঞ্জিন দিয়ে নৌ-যান চালানোর চেষ্টা
সফল হয়। এক্ষেত্রে জেমস ওয়াটই কৃতিত্বের দাবীদার।

অন্যতম অবদানসমূহঃ
১.    ১৭৮১ সালে গিয়ার, ১৭৮৮ সালে সেন্ট্রিফিউগাল (অপসরণশীল) পাম্প এবং
১৭৯০ সালে প্রেশার গজ (চাপ মাপক যন্ত্র), কাউন্টার, ইন্ডিকেটর, থ্রটল,
ভালভ্ ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
২.    আধুনিক স্টীম বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারক তিনি।

জীবিত থাকাকালীন সময়ে তাঁর এই আবিষ্কার যতটুকু সফলতা অর্জন করেছিল,
তাঁর মৃত্যুর পর বিজ্ঞানের জগতে ঘটে যায় আশাতীত ঘটনা। এই বাষ্পীয় ইঞ্জিনের
গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে জেমস ওয়াটের আবিষ্কৃত এই বাষ্পের
শক্তিকে ব্যবহার করে যানবাহন চালানোর চিন্তা নিয়ে গবেষণা করেন ফ্রান্সের
নিকোলাস কুনো নামের এক ইঞ্জিনিয়ার এবং এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ইঞ্জিন
তৈরি করেন। সেই ইঞ্জিনের সাহায্যে গাড়ি নির্মাণ করেন

ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা: বিজ্ঞানী আল ফারাবী


ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা: বিজ্ঞানী আল ফারাবী

banglanews24

 

একসময় মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা কোনো অংশে কম ছিল না।
সে সময় সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল মুসলমানদের হাতে।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও সভ্যতায় মুসলিম জাতি ছিল উন্নত ও শ্রেষ্ঠ।
অতীব দুঃখের বিষয়, মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত সম্পর্কে আজ মুসলমানদের
অনেকেই ওয়াকিবহাল নয়। ইউরোপের পন্ডিতরা বিশ্বখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী ও
দার্শনিকদের নাম বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন। সেই ঐতিহ্যের মাঝে বিজ্ঞানী
আল-ফারাবীর নাম উল্লেখযোগ্য। আল ফারাবী দর্শন ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা ও
সঙ্গীত-এর ন্যায় জ্ঞানের বিস্তর শাখায় অবদান রাখেন।

বিজ্ঞানীর জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনা
তিনি একজন খ্যাতনামা দার্শনিক ও বহুভাষাবিদ পন্ডিত। তোমরা জেনে অবাক হবে,
তিনি প্রায় সত্তরটি ভাষা জানতেন। আর যে কারণে আরবরা তাকে বলতো, ‘হাকিম
সিনা’ অর্থাৎ দ্বিতীয় আচার্য।

 

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

নাম- আবু নসর আল ফারাবী।
জন্ম- আনুমানিক ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু- ৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে।
বাসস্থান- তুর্কিস্তানের অন্তর্গত ফারাব নামক শহরের নিকটে আল ওয়াসিজ গ্রামে।

শিক্ষা জীবন- শিক্ষাজীবন শুরু করেন ফারাবায়। কয়েক বছর পর আরো শিক্ষার
উদ্দেশ্যে চলে যান বোখারার। আল ফারাবী উচ্চ শিক্ষার জন্যে গমন করেন
বাগদাদে। তিনি সেখানে প্রায় ৪০ বছর ধরে অধ্যায়ন ও গবেষণা চালিয়ে যেতে
থাকেন। কয়েকটি ভাষার উপর তিনি পূর্ণ দখল অর্জন করেন। তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের
বিভিন্ন শাখায় ছিলেন পারদর্শী। তবে দার্শনিক  বিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর খ্যাতি
ছাড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। জ্ঞানের সন্ধানে তিনি ছুটি গিয়েছেন দামেস্কে,
দেশ-বিদেশের আরো অনেক স্থানে পদার্থবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন,
যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভৃতিতে তিনি উল্লেখযোগ্য
অবদান রাখেন। মূলত দর্শন ও বিজ্ঞানে তাঁর অবদান সর্বাধিক। পদার্থ বিজ্ঞানে
তিনি শূন্যতার অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন। তিনি বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক হিসেবে
আরোহন করেছিলেন জ্ঞানের শীর্ষে।

 

রাজা সাইফ আদ দৌলা বিজ্ঞানী আল ফারাবীর সাক্ষাৎ পাননি। একবার ফারাবী
শাহী দরবারে উপস্থিত হন। ফারাবীকে নিকটে পেয়ে রাজা খুব খুশি হন। সেই সঙ্গে
ফারাবীর সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের দীর্ঘ আলোচনায় মেতে ওঠেন। দার্শনিক ফারাবীর
প্রজ্ঞায় রাজা মুগ্ধ হন। সম্মান দেখান তাঁর প্রতি। বিজ্ঞানী আল ফারাবী
রাজার সঙ্গী হিসেবে এখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র প্রভৃতি বিষয়ে বহু রচনা লিখেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় শতাধিক বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

তবে এ সকল অমূল্য অধিকাংশ গ্রন্থের সন্ধান মেলেনি। আল ফারাবীর লেখা ‘আলা
আহলে আল মদীনা আল ফাদিলা (দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত) গ্রন্থটি
সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কেও তাঁর লেখা কয়েকটি গ্রন্থ
তাঁকে বিখ্যাত করেছে।

 

অন্যতম অবদানসমূহ :
১.    পদার্থবিজ্ঞানে তিনি শূন্যতার অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন
২.    আলা আহলে আল মদীনা আল ফাদিলা (দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান) গ্রন্থ।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের ইতিহাসে আল ফারাবীর নাম আজো স্মরণীয়। মুসলিম জাতির
কল্যাণে তিনি যে মৌলিক আবিষ্কার রেখে গেছেন তা আমাদের জন্য দিক নির্দেশনা
বটে!

– সাদ আব্দুল ওয়ালী, প্রকাশিতব্য ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা থেকে নেওয়া

ফুয়েল সেল আবিষ্কারের ইতিকথা


ফুয়েল সেল আবিষ্কারের ইতিকথা

image_532_74601

বর্তমানে বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে। আর ফুয়েল সেল এই নবায়নযোগ্য জ্বালানীরই একটি মাধ্যম। কিন্তু কিভাবে আবিষ্কৃত হলো এই ফুয়েল সেল।

ফুয়েল সেল হচ্ছে এক প্রকার রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুত-প্রবাহ
সৃষ্টিকারী যন্ত্র। ১৮৩৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রেড্রিক স্কোবিয়েন প্রথম
ফুয়েল সেল এর নীতি আবিষ্কার করেন। ১৮৩৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সৌখিন
বিজ্ঞানী এবং ব্যারিস্টার স্যার উইলিয়াম রর্বাট গ্রোভ ফুয়েল সেল এর
মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন। তবে
বাণিজ্যিকভাবে প্রথম বারের মতো ফুয়েল সেল এর ব্যবহার শুরু হয় ১৯৫৮ সালে।
ফুয়েল সেল এর রাসায়নিক উপাদান প্রতিবার ব্যবহার করা যায়। কারণ, ফুয়েল
সেল এক প্রকার নবায়ানযোগ্য জ্বালানীর মাধ্যম। ফুয়েল সেল এর প্রধান
রাসায়নিক উপাদান হল হাইড্রোজেন  এবং বাতাস থেকে প্রাপ্ত আক্সিজেন। তাছাড়া
আন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে হাইড্রকার্বন যৌগ যেমন এলকোহল ব্যাবহার
করা হয়।  বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল সেল পাওয়া যায় এবং এটা নির্ভর
করে রাসায়নিক উপাদানের উপর।   ফুয়েল সেল এর রাসায়নিক উপাদান ভিন্নতার
জন্য বিভিন্ন প্রকারের নামকরন করা হয়। আর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যেমনঃ
১) প্রোটোন বিনিময়কারী ফুয়েল সেল, ২) প্রত্যক্ষ ব্যবহৃত মিথানল ফুয়েল
সেল অথবা মিথানল ফুয়েল সেল, ৩) সলিড অক্সাইড ফুয়েল সেল, ৪) বিগলিত
কার্বনেট ফুয়েল সেল, ৫) এলকালাইন বা ক্ষারধর্মী ফুয়েল সেল ইত্যাদি।
বর্তমানে অটোমোবাইল ছাড়াও বিভিন্ন বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতিসমূহ
ল্যাপটপ, ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ইত্যাদিতে ফুয়েল সেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে গবেষকগণ এই ফুয়েল সেল চালিত বিদ্যুত উৎপাদনের কাজ শুরু করেছেন।