বিজ্ঞানী লর্ড উইলিয়াম টমসন কেলভিন


বিজ্ঞানী লর্ড উইলিয়াম টমসন কেলভিন

Someone_2009_1282850870_6-cathtube

বিজ্ঞান আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে সহজ ও ¯^v”Q›`¨gq করে তুলেছে। ‘পরম স্কেল’ ও ‘গ্যাস তরলীকরণ সূত্র’ কে আবিষ্কার করেছেন? এই আবিষ্কারক বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে তিনি একটি পরিচিত নাম। তিনি
পদার্থবিদ্যার অনেকগুলো আবিষ্কারের সহিত যুক্ত। বেশকিছু মূল্যবান গ্রন্থের তিনি
রচয়িতা। তিনি হচ্ছেন উইলিয়াম টমসন কেলভিন Continue reading

Advertisements

বিজ্ঞানী আবদুস সালাম


বিজ্ঞানী আবদুস সালাম

2015_06_25_07_14_17_eCNRxuQmzAOJCqJ2Q1qQ180GAKdZ9w_original

১৯২৬-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ]

 

বিজ্ঞানের বিশাল জগতে পদার্থ বিজ্ঞানের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আর পদার্থ বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় যেসব বিজ্ঞানী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের অধ্যাপক আবদুস সালাম অন্যতম। বিশ্ববাসীর কাছে এ তথ্য প্রচলিত হল ‘সুইডিশ একাডেমী  আর সায়েন্স’ যেদিন ১৯৭৯ সালে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করলেন। পদার্থ বিজ্ঞানে যে তিনজন নোবেল পুরস্কার পান বিজ্ঞানী আবদুস সালাম তাঁদেরই একজন।

 

অন্যতম অবদানসমূহ ঃ

১. নিরপেক্ষ তড়িৎ’ তত্ত্ব আবিষ্কার

২. ১৯৭৯ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ
বিজ্ঞানী আবদুস সালাম জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ খ্রীস্টাব্দ পাকিস্তানের লাহোর শহরের দু’শ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ‘ঝাঙ’ নামক শহরে। তাঁর বাবা চৌধুরী মুহম্মদ হোসেন ছিলেন একটা সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক। কিছুদিন পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে শিক্ষা বিভাগের জেলা বোর্ড অফিসে প্রধান করণিক হিসেবে যোগ দেন।

 

ছোটবেলায় তিনি লেখাপড়ায় ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। চার বছর না পেরোতেই প্রচুর কবিতা মুখস্ত করেছিলেন। ইসলামের ইতিহাসের অনেক কাহিনী বলে যেতে পারতেন। কোরান শরীফ মুখস্ত বলতেন না দেখে। স্কুল-কলেজে তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বলা যায় সেসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিলেন। তিনিই প্রথম পাকিস্তানী যিনি নোবেল পুরস্কার পান।

পদার্থ বিজ্ঞানী আবদুস সালামের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষ করে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিবেন। কিন্তু সে ইচ্ছে আর পূরণ হলো না। লাহোর থেকে অঙ্কশাস্ত্রে এম.এ সম্পন্ন করে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভের সময় তিনি ডিরাক প্রমুখ প্রখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীদের শিক্ষাগুরু হিসেবে পান। সালামের মধ্যে অনন্য প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে বুঝতে পেরে ডিরাক তাকে পদার্থ বিজ্ঞানী হবার জন্য উৎসাহিত করেন। আবদুস সালাম সহসা তাঁর ইচ্ছা পরিবর্তন করেন। একত্রিশ বছর বয়স হবার পূর্বেই বিজ্ঞানী আবদুস সালাম রয়াল সোসাইটির সভ্য মনোনীত হন। ১৯৫৭ সালে তিনি লন্ডনের  ইস্পিটরিয়াল কলেজ অর সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ইতালির ত্রিয়োস্তেতে অবস্থিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার  থিওবেটিক্যাল ফিজিক্স এর ডিরেক্টর। মূলত তার উদ্যোগে এই বিশিষ্ট গবেষণা কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে।

 

১৯৭৯ সালে বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম ও অপর দু’জন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী যথাক্রমে অধ্যাপক স্টিভেন ভিনুবার্গ, অধ্যাপক শেলডান এল গ্লাশো সম্মিলিতভাবে নোবেল পুরস্কার পান। পদার্থবিজ্ঞানে যে অনন্য সাধারণ কাজের জন্য এই তিন পদার্থবিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়, বিজ্ঞানীদের ভাষায় তা ’ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি’ একক ক্ষেত্রতত্ত্ব নামে পরিচিত।

 

পদার্থবিজ্ঞানীদের অভিমত, বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে বস্তুকণা থেকে আরম্ভ করে গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদির সৃষ্টি, রূপান্তর ও কার্যকলাপের মূলে আছে চার রকম মৌলিক বল বা ফোর্স। প্রথমটি হচ্ছে মহাকর্ষ বল, দ্বিতীয়টি স্ট্রং ফোর্স বা প্রবল বল, তৃতীয়টি তড়িৎ †PŠ¤^K বল এবং চতুর্থটি ’উইক ফোর্স’ বা মৃদু বল।

 

এই চারটি বলে পৃথক সত্তা আছে বলে ধারণা করা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা ভিন্ন রকম। এই চার রকম বলের উৎস আসলে একই। প্রত্যেক রকম বলের প্রভাব এক একটি নির্দিষ্ট গন্ডীর বা ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন থেকে শুরু করে পরবর্তীকালের অনেক প্রখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীই এই চার রকম বলের ক্ষেত্রের মধ্যে একটা mgš^q সাধনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, তাঁদের সবারই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল একটাই, সেটা হচ্ছে এমন একটি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা যার দ্বারা প্রমাণিত হবে একই সত্তায় চতুর্থমুখী প্রকাশ। আর এই তত্ত্বটিকেই বিজ্ঞানীরা আখ্যা দিয়েছেন “ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি বা একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্ব”। এই প্রচেষ্টায় সবাই সফল না হলেও বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম এবং তাঁর সতীর্থ দুই মার্কিন বিজ্ঞানী আংশিক সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হন। এই অসামান্য কৃতিত্বের ¯^xK…wZ¯^iƒc এরা তিনজন একত্রে সম্মানিত হয়েছেন নোবেল পুরস্কারে। বিজ্ঞানী আব্দুস সালামের আর একটি কৃতিত্ব হচ্ছে ‘ওমেগামাইনাস’ নামে এক রকম মৌলকণা আবিষ্কার।

 

১৯৮১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বার্ষিক সমাবর্তন উৎসবে ভাষণ দেবার জন্য অধ্যাপক আব্দুস সালামকে আমন্ত্রণ জানান হয়। তিনি এতে একটি শর্তারোপ করেন। আর সেটি হচ্ছে তাঁর শিক্ষাগুরু অধ্যাপক শ্রী অনিলেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সম্মানিত করা। শিক্ষাগুরুকে সম্মানিত করার পর বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম কলকাতায় আসেন।

 

বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে আক্রান্ত হন পারকিনসন রোগে। আর এই রোগেই তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৯৬ সালের ২১ b‡f¤^i| আমরা হারিয়েছি একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীকে

বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান


বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান

Jabir-Ibne-Haiyyan-221x300

জাবির ইবনে হাইয়ান এর পূর্ণ নাম আবু আবদুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান। কেউ
তাকে আল হাররানী এবং ‘আস্ সুফী’ নামেও অভিহিত করেন। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান
ছাড়াও চিকিৎসা শাস্ত্র, দর্শণ, যুদ্ধবিদ্যা, রসায়ন, জ্যামিতি প্রভৃতি
বিষয়ে পান্ডিত্য লাভ করেন।

বিজ্ঞানীর জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনা
জাবির ইবন হাইয়ানকে বলা হয় রসায়ন বিজ্ঞানের জনক। তাঁকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ
রসায়নবিদদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর ‘কিতাবুস সুসুম’ (Book of
Poison) বইটি আরব ঔষধবিজ্ঞানের অন্যতম উৎস।

গুপ্তবিদ্যার প্রতি মানুষের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। “আল কেমি” হচ্ছে সেই
রকম গুপ্তবিদ্যা, যার দ্বারা মানুষ “এলিক্সির” নামে একটি যাদুকরী বস্তু
তৈরী করতে সক্ষম হবে। আর এই এলিক্সিরের ছোঁয়ায় লোহা হয়ে যাবে সোনা, তামা
হয়ে যাবে রূপা, আর মানুষের আয়ু যাবে বহুগুন বেড়ে!! লোহা থেকে সোনা বানানো
কিংবা জীবনকে দীর্ঘায়িত করার বাসনাই ছিল আল কেমী বিদ্যার মূল উদ্দেশ্য। আল
কেমী বহু আগে থেকে চলে আসা একটি বিষয়, পৃথিবীর মানুষ লোহা থেকে সোনা
বানানোর অসম্ভব চেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই করছে। আল কেমী বিদ্যাটি
কিছুটা গুপ্ত হওয়ায় জাবেরের বইগুলোও অনেকটা রূপক ভঙ্গীতে লেখা। আল কেমি
বিষয়ে লেখা তার বই “কিতাব আল জোহরা”তে তিনি লিখেছেন, “আল্লাহ যাদের
ভালবাসেন তারা ব্যাতীত বাকীদের হতভম্ব করা এবং ভুল পথে নেয়াই এর উদ্দেশ্য।”

আবার এই জাবিরই লিখেছেন, “আমার “মাস্টার” আমাকে শাসাচ্ছেন, যাতে এসব
বিদ্যা কোন অবিবেচকের হাতে না পড়ে।” আলকেমীর বিদ্যা গুপ্ত রাখার মানসিকতায়
তিনি বইসমূহ লিখেছেন সাধারণ যাতে সহজ বুঝতে না পারে সেই দৃষ্টিকোন্ থেকে।

একসময় আল কেমীর চর্চা ও অনুশীলন থেকে জাবির আবিষ্কার করলেন অনেক কিছু।
তিনি আবিষ্কার করেন কি করে তরলের মিশ্রন থেকে একটি তরলকে আলাদা করা যায়,
যা ডিস্টিলেশন নামে পরিচিত, আবিষ্কার করেন একুয়া রেজিয়া নামে একটি মিশ্রন
যা সোনাকে গলিয়ে দিতে সক্ষম এবং উদ্ভাবন করেন অগুনতি কেমিক্যাল
সাবসট্যান্স – যা মরিচা প্রতিরোধ, স্বর্নের কারুকাজ, পোশাকের ওয়াটারপ্রুফ
সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়। আল কেমী থেকে তিনি সিস্টেমেটিক
এক্সপেরিমেন্টেশনের দ্বারা শুরু করেন আরেকটি বিষয়, যা পরিচিতি লাভ করে
কেমেস্ট্রি হিসেবে।

 

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

নাম- আবু আবদুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান।
জন্ম- ৭২২ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু- ৮০৩ খ্রিস্টাব্দে।
বাসস্থান- কুফা শহরে।

শিক্ষা জীবন- জাবির ইবনে হাইয়ান দক্ষিণ আরবে শিক্ষা লাভ করেন। শিক্ষা
লাভের প্রতি তার ছিল প্রচন্ড আগ্রহ। বলা যায়, অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে
তিনি গণিতের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ পারদর্শী হন।

শিক্ষালাভ শেষ হলে তিনি পিতার কর্মস্থান কুফা নগরীতে গিয়ে বসবাস করেন।
সেখানে তিনি প্রথমে চিকিৎসা ব্যবসায় আরম্ভ করেন। এ সূত্রেই তৎকালীন
বিখ্যাত পন্ডিত ইমাম জাফর সাঢিকের অনুপ্রেরণায় তিনি রসায়ন ও চিকিৎসা
বিজ্ঞানে গবেষণা শুরু করেন। আর অল্প সময়ে রসায়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে
সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।

ইমাম জাফর সাদিকই জাবিরকে বারমাক বংশীয় কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে পরিচয়
করিতে দেন। একবার ইয়াহিয়া বিন খালিদ নামক জনৈক বারমাক মন্ত্রীর এক প্রিয়
সুন্দরী দাসী মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। অনেক সুপ্রসিদ্ধ চিকিৎসকরা
তার চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হন। এ সময় মন্ত্রী প্রাসাদে জাবির ইবনে হাইয়ানের
ডাক পড়ে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জাবির তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ
করে তোলেন। এতে মন্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বে গড়ে ওঠে। বারমাস বংশীয় কয়েকজন
মন্ত্রীর মধ্যস্থতায় তিনি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে সক্ষম হন। এর
ফলে তিনি রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা চালাতে থাকেন। তিনি
বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য ও বিভিন্ন পদার্থ আবিষ্কার করেন। এর ফলে
শ্রেষ্ঠ রসায়ন বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি সর্বদা হাতে কলমে
কাজ করতেন এবং পর্যবেক্ষণ করে তার ফলাফল লিখে রাখতেন। তার মতে,
‘রাসায়নিকের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাজ হলো হাতে কলমে পরীক্ষা চালানো’।

অধিকাংশ সময় তিনি বাগদাদে কাটিয়েছেন। তিনি অষ্টম শতাব্দীর শেষ দিকে
বাগদাদেই রসায়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর গবেষণা করতে থাকেন। এখানে তাঁর
গবেষণাগার ছিল।
তাঁর অবদান মৌলিক। তিনি বস্তুজগতকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন, প্রথম
ভাগে স্পিরিট, দ্বিতীয় ভাগে ধাতু এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক পদার্থ। তাঁর এ
আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা বস্তুজগতকে তিনটি ভাগে
ভাগ করেন, বাষ্পীয়, পদার্থ ও পদার্থ বহির্ভূত।  জাবির ইবনে হাইয়ানই
সর্বপ্রথম নাইট্রিক এডিস আবিষ্কার করেন। এছাড়া সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার
করেন। তিনি তাঁর ‘কিতাবুল ইসতিতমাস’ গ্রন্থে নাইট্রিক এসিড তৈরির ফর্মূলা
বর্ণনা দেন।

 

অন্যতম অবদানসমূহ :
১.    তাঁর মতে, ‘রাসায়নিকের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাজ হলো হাতে কলমে পরীক্ষা চালানো’।
২.    তিনি বস্তুজগতকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন, প্রথম ভাগে স্পিরিট, দ্বিতীয় ভাগে ধাতু এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক পদার্থ।
৩.    তিনি নাইট্রিক ও সালফিউরিক এডিস আবিষ্কার করেন।

তিনি গ্রিক ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র, ইউক্লিড ও আল
মাজেস্টের ভাষ্য, দর্শন, যুদ্ধবিদ্যা, রসায়ন, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও
কাব্য সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেন। বিজ্ঞানে তাঁর অবদান আজও চিরস্মরণীয়

বিজ্ঞানী ইবনে সিনা


বিজ্ঞানী ইবনে সিনা

72b836ab92e343389250908a65bc0469

বিজ্ঞানের একটি অন্যতম শাখা হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান। আর
এই চিকিৎসা বিজ্ঞানে একজন বিজ্ঞানী বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছিলেন। তাঁর
লেখা চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ “আল কানুন ফিল থিব” কে দীর্ঘকাল ইউরোপে
চিকিৎসার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত
করা হতো। মানবদেহের অঙ্গসংস্থান ও শরীরতত্ত্ব সন্বন্ধে তিনি যে সব তথ্য
প্রদান করেছিলেন সেগুলো সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত পৃথিবীর সব দেশের
চিকিৎসকেরা অনুসরণ করেছিলেন। বলা যায়, শল্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁর কালজয়ী
অবদান উল্লেখযোগ্য। এই খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হচ্ছেন আবুল আলি ইবনে সিনা।
তিনি ইবনে সিনা নামে অধিক পরিচিত।

 

বিজ্ঞানীর জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনা
অবাক করা ঘটনা, মাত্র দশ বছর বয়সেই ইবনে সিনা পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্ত
করতে সক্ষম হন। ইবনে সিনা লাইব্রেরীতে পড়ার সুযোগ পেয়ে রীতিমত অধ্যয়ন শুরু
করলেন এবং লাইব্রেরীর সব বই মুখস্থ করে ফেললেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি
বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, গণিত, জ্যামিতি,
ন্যায়শাস্ত্র, ধর্মতত্ত্ব, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কাব্য ও সাহিত্য বিষয়ে
অসামান্য পান্ডিত্য অর্জন করেন। ২১ বছর বয়সে তিনি আল মুজমুয়া নামে একটি
বিশ্ব কোষ রচনা করেন। এতে তিনি গণিত ছাড়া সব বিষয় লিপিবদ্ধ করেন।

 

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

নাম- আবুল আলি ইবনে সিনা।
জন্ম-আনুমানিক ৯৮০ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে এবং মৃত্যু-১০ ডিসেম্বর ১০৩৭।
বাসস্থান- উজবেকিস্তানের বিখ্যাত শহর বোখারার নিকটবর্তী আফসানা গ্রামে।

 

শিক্ষা জীবন- শৈশবে ইবনে সিনা অত্যন্ত মেধাবী ও প্রখর স্মৃতিশক্তির
অধিকারী ছিলেন। মাত্র দশ বছর বয়সেই তিনি পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্ত
করেছিলেন। এছাড়া তিনজন গৃহ শিক্ষকের নিকট তিনি ধর্মতত্ত্ব, ফিকাহ্,
তাফসীর, গণিত শাস্ত্র, দর্শন, ন্যায়শাস্ত্র এবং এমনকি জ্যামিতি বিষয়ে
অধ্যায়ন শুরু করেন। এভাবে তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে সেসময় প্রচলিত সকল জ্ঞান
অর্জন করতে পেরেছিলেন। বলা হয়ে থাকে ইবনে সিনা সাহিত্য, ধর্মতত্ত্ব,
ইউক্লিডের জ্যামিতি, এরিস্টটলের দর্শন, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং বীজগণিতে
বুৎপত্তি লাভ করেন। মূলত কিডোর ইচ্ছায় তাঁকে আইন শাস্ত্রে অধ্যায়ন শেষে
আঠার বছর বয়সে গণিত ও চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যায়ন করেন। এতে তাঁর যথেষ্ট
কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। এছাড়া দর্শন শাস্ত্রেও তিনি অধ্যায়ন করেন।
তখনকার দিনে তিনি ‘হাকিম’ অর্থাৎ প্রজ্ঞাবান উপাধিতে ভূষিত হন।

 

ইবনে সিনার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বুখারার সুলতান মাহমুদ এক
কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বহু নামকরা চিকিৎসক আসেন  তাঁকে চিকিৎসা করতে।
কেউ পারলেন না তাঁর রোগ নির্ণয় করতে। এ মুহূর্তে তরুণ ইবনে সিনা স্বেচ্ছায়
রাজ দরবারে গিয়ে রাজার চিকিৎসার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন। সহসাই তিনি
অনুমতি পেলেন। ইবনে সিনার চিকিৎসার গুণে অতি অল্পদিনের মধ্যে সুলতান
আরোগ্য লাভ করলেন। সুলতানও তাঁর প্রতি খুশী হলেন এবং চাইলেন তাঁকে
পুরস্কৃত করতে। এ সময় ইবনে সিনা সুলতানের প্রিয় এক বিরাট গ্রন্থাগারে এসে
পড়াশোনা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। বরং সুলতান তাঁর উপর সমগ্র
গ্রন্থাগারের ভার অর্পণ করলেন।

 

হঠাৎ একদিন এই গ্রন্থাগারে আগুন লেগে সমস্ত বই নষ্ট হয়ে যায়। বিরোধীরা
সুলতানের নিকট প্রকাশ করলেন এটি ইবনে সিনার কাজ। তারা বললেন, ইবনে সিনা
বইগুলো কন্ঠস্থ করে নিয়ে ইচ্ছে করেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। কানপাতলা সুলতান
এ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করলেন। এবং ইবনে সিনাকে বিতাড়িত করলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এই
ক্ষুদ্র রাজ্যের রাজাগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রতি আগ্রহশীল হয়ে
উঠেছিলেন। আর এসব রাজ্যের রাজাগণ চাইতেন রাজসভায় বড় বড় পণ্ডিত রাখতে। ইবনে
সিনার তেমন অসুবিধা হলো না। তিনি বুখারা পরিত্যাগ করে খরজমে গেলে সেখানকার
সুলতান তাঁকে রাজচিকিৎসক নিয়োগ করলেন।

 

খরজমের রাজসভায় বহু গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক,
বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আলবেরুনী যিনি সুলতান মাহমুদের সঙ্গে ভারতবর্ষে
এসেছিলেন এবং তৎকালীন ভারতের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। একদিন সুলতান
মাহমুদের কর্ণগোচর হয় ইবনে সিনা, আলবেরুনী প্রভৃতি পণ্ডিতের পাণ্ডিত্যের
খ্যাতি। তিনি খরজমের সুলতানের কাছে তাঁরই সভায় প্রেরণের দাবী করলেন। আর
মাহমুদের  দাবীকে উপেক্ষা করতে পারলেন না খরজমের শাসক। তিনি পণ্ডিতদের
সেখানে প্রেরণ করলেন। কিন্তু ইবনে সিনা কেমন যেন ঘৃণাবোধ করায় সুকৌশলে
নিজেকে মুক্ত করে পালিয়ে গেলেন।

 

কিছুদিন অগোচরে থাকার পর ইবনে সিনা একদিন উপস্থিত হলেন ইরানের রাজসভায়।
সুলতান তাঁর পূর্ণ পরিচয় পেয়ে খুব আনন্দিত হলেন। সেই সঙ্গে তাঁকে
সভাপণ্ডিতে পদ দান করলেন। এদিকে সুলতান মাহমুদ এত সহজে হার মানার পাত্র
ছিলেন না। গুপ্তচরের মুখে সংবাদ পেয়ে ইবনে সিনাকে বেঁধে আনার নির্দেশ
দিলেন।

বিজ্ঞানী আল বিরুনী


বিজ্ঞানী আল বিরুনী

full_279472847_1445563985

প্রাচ্যের বিজ্ঞানীদের জীবন আলোচনা করার সময় প্রসঙ্গত একজনের নাম চলে আসে। গণিতবিদ্যায়
যার অবদান উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞানের প্রায় সবকটি শাখায় তিনি গবেষণা করেছেন।
সেই সঙ্গে তাঁর মূল্যবান মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি হচ্ছেন আবু রৈহান
মুহম্মদ ইবন আহমদ আল বিরুনী। আল বিরুনী নামে তিনি অধিক পরিচিত।

বিজ্ঞানীর জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনা
আল বিরুনী ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি
সর্বপ্রথম প্রাচ্যের জ্ঞানবিজ্ঞান, বিশেষ ক’রে ভারতের জ্ঞান-বিজ্ঞানের
প্রতি মুসলিম মনীষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অধ্যাপক মাপা এর
মতে, “আল বিরুনী শুধু মুসলিম বিশ্বের নয়, বরং তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের
শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তিদের এক জন।”
একদিনের ঘটনা। সুলতান মাহমুদ গজনিতে তার মনোরম বাগানে গ্রীষ্মবাসের ছাদে
বসে আল বিরুনীকে বললেন, এ বাড়ির চার দরজার কোন্ দরজাটি দিয়ে আমি বের হবো,
আপনি তা গননা করে একটি কাগজ়ে লিখে আমার কম্বলের নিচে রেখে দিন। আল-বিরুনী
তার আস্তারলব যন্ত্রের সাহায্যে অঙ্ক কষে নিজস্ব মতামত একটি কাগজ়ে লিখে
সুলতান মাহমুদের কম্বলের নিচে রেখে দিলেন। তখন সুলতান রাজমিস্ত্রির
সাহায্যে একটি নতুন দরজা তৈরি করে বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে এসে দেখেন আল
বিরুনীর কাগজে যা লেখা ঠিক তারই অনুরূপ, “আপনি পূর্ব দিকের দেয়াল কেটে
একটি নতুন দরজা তৈরি করে বেরিয়ে যাবেন”। কাগজের সেই লেখা পড়ে সুলতান ভীষণ
রাগান্বিত হয়ে ছাদ থেকে আল বিরুনীকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়ার জন্য
আদেশ দিলেন। কিন্তু মশামাছি রক্ষা পাবার জন্য নিচে জাল দেওয়া ছিল। সুলতানের
আদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে আল বিরুনী সেই জালে আটকে যাওয়ায় তেমন আঘাত পেলেন
না। সুলতান আল বিরুনীকে আবার ডেকে আনলেন। সেই সঙ্গে তার চাকরের মাধ্যমে আল
বিরুনীর দৈনিক ভাগ্য গণনার ডায়েরিটা নিয়ে সুলতান দেখলেন, তাতে লিখা আছে
“আমি আজ উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে গেলেও বিশেষ আঘাত পাব না”। এ দেখে
সুলতান আরো রেগে গিয়ে আল বিরুনীকে জেলে পাঠালেন। কিন্তু কেউ এর পরে আল
বিরুনীকে কারগার থেকে মুক্তির সুপারিশ করতে সাহস পেলেন না। ঠিক ছয় মাস পরে
সুলতানের মন মেজাজ বুঝে প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাসান একদিন আল বিরুনীর প্রতি
সুলতানের নেক নজর আকর্ষণ করলেন। সুলতান মাহমুদের এ কথা স্বরণই ছিল না। ফলে
সুলতান তৎক্ষণাৎ তাকে মুক্তির আদেশ দিলেন।

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

নাম- আবু রৈহান মুহম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনী।
জন্ম- ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু- ১০৪৮ খ্রিস্টাব্দে।
বাসস্থান- আল বিরুনীতে।

শিক্ষা জীবন- আল বিরুনী আবু নাসের ইবনে আলি ইবন ইরাক জিলানি এবং তদ্রূপ
আরো কিছু বিদ্বান ব্যক্তির কাছে গণিতশাস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করেন।
অধ্যয়নকালেই তিনি তার কিছু প্রাথমিক রচনা প্রকাশ করেন এবং প্রখ্যাত
দার্শনিক ও চিকিৎসা শাস্ত্র ইবন সিনার সাথে পত্র বিনিময় করেন। আল বিরুনির
মাতৃভাষা ছিল খাওয়ারিজিম আঞ্চলিক ইরানি ভাষা। কিন্তু তিনি তার রচনাবলি
আরবিতে লিখে গেছেন। আরবি ভাষায় তার অগাধ পান্ডিত্য ছিল। তিনি আরবিতে কিছু
কবিতাও রচনা করেন। অবশ্য শেষের দিকে কিছু গ্রন্থ ফার্সিতে অথবা আরবি ও
ফার্সি উভয় ভাষাতেই রচনা করেন। তিনি গ্রিক ভাষাও জানতেন। হিব্রু ও সিরীয়
ভাষাতেও তার জ্ঞান ছিল। গণিতবিদ আবু নাসের মানসুর ইবনে আলি ও চিকিৎসক আবুল
খায়ের আল-হুসায়ন ইবনে বাবা আল-খাম্মার আল-বাগ দাদদির সাথে গজনি চলে যান।
এখানেই তার জ্ঞানচর্চার স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। তখন হতে তিনি গাজনি শাহী
দরবারে সম্ভবত রাজ জ্যোতির্বিদ হিসেবে অবস্থান করতে থাকেন। তিনি কয়েকবার
সুলতান মাহমুদের সাথে উত্তর-পশ্চিম ভারতে গমন করে ছিলেন। আল বিরুনী সেখানে
প্রায় ১২ বছর অবস্থান করেছিলেন। এখানে সংস্কৃত ভাষা, হিন্দু ধর্ম, ভারতীয়
সভ্যতা ও সংস্কৃতি, দেশাচার, সামাজিক প্রথা, রাতিনীতি, কুসংস্কার ইত্যাদি
বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হন।

ঐতিহাসিক বর্ণনাকারীদের মতে, তাঁর পাশাপাশি সে সময়ে কেউ ছিলেন না।
প্রাচীন জাতিদের বিষয়ে তিনি লিখেছেন ‘কিতাব আল-আথার আল-বাকিয়া অনি ল-করুন
আল-খালিয়া’। তৎকালীন ভারতবর্ষ বিষয়ে তাঁর বহু আলোচিত গ্রন্থ ‘তারিখ
আল-হিন্দ’ রয়েছে। আর বিজ্ঞান-চিন্তা ও গবেষণার ফলাফল তিনি ‘আল-কানুন
আল-মাসুদি’ নামক বইতে লিখে রেখেছেন।

গণিতের জগতে তাঁর ত্রিকোণমিতি ভাবনাই সবচেয়ে মৌলিক। ০০ থেকে ৯০০ পর্যন্ত
প্রতি 15’ পরপর বিভিন্ন কোণের সাইন মান বের করে একটা সাইন-সারণি
সাজিয়েছিলেন। ট্যানজেন্ট সারণিও তিনিই তৈরি করেছিলেন।

আল বেরুনী মোট আঠারটি বিভিন্ন মূল্যবান পাথর ও ধাতুর আপেক্ষিক গুরুত্ব
নির্ণয় করেছিলেন। আর এই মানগুলো ছিল নির্ভুল। তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে খনিজ
সংগ্রহ করে তাদের বাহ্যিক ধর্ম, বাণিজ্যিক মূল্য ও ব্যবহারিক সম্ভাবনা
যাচাই করেন। পৃথিবীর আকার নিয়েও তিনি ভেবেছিলেন। প্রসবণের উৎপত্তি,
নদী-নালা-খালের জলপ্রবাহ এসব বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যামূলক কথা লিখেছেন।


অন্যতম অবদানসমূহ :

১.    গণিতের জগতে ত্রিকোণমিতি ভাবনা যেমন ০০ থেকে ৯০০ পর্যন্ত প্রতি ১৫
পরপর বিভিন্ন কোণের বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত ৩ ১০/৭১  ও ৩ ১/৭ এর
মধ্যে অবস্থিত।
২.    এছাড়া ট্যানজেন্ট সারণিও তিনিই তৈরি করেন।

ভেষজ নিয়ে তাঁর বইয়ের নাম ‘কিতাব-ই-সায়দানা’। মধ্যযুগে এই বইয়ের ব্যাপক
খ্যাতি ছিল। আল বিরুনীর জ্ঞানের ভান্ডার ছিল অপরিসীম। ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড
শাকাও আল বিরুনী সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘Al-Biruni was the greatest
intellect that ever lived on this earth.’| তিনি ছিলেন গণিতজ্ঞ,
জ্যোতির্বিদ, চিকিৎসাশাস্ত্র বিশারদ, ভৌগলিক ও ঐতিহাসিক।

– সাদ আব্দুল ওয়ালী, প্রকাশিতব্য ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা থেকে নেওয়া।

ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা: বিজ্ঞানী আল ফারাবী


ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা: বিজ্ঞানী আল ফারাবী

banglanews24

 

একসময় মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা কোনো অংশে কম ছিল না।
সে সময় সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল মুসলমানদের হাতে।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও সভ্যতায় মুসলিম জাতি ছিল উন্নত ও শ্রেষ্ঠ।
অতীব দুঃখের বিষয়, মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত সম্পর্কে আজ মুসলমানদের
অনেকেই ওয়াকিবহাল নয়। ইউরোপের পন্ডিতরা বিশ্বখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী ও
দার্শনিকদের নাম বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন। সেই ঐতিহ্যের মাঝে বিজ্ঞানী
আল-ফারাবীর নাম উল্লেখযোগ্য। আল ফারাবী দর্শন ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা ও
সঙ্গীত-এর ন্যায় জ্ঞানের বিস্তর শাখায় অবদান রাখেন।

বিজ্ঞানীর জীবনে অবিস্মরণীয় ঘটনা
তিনি একজন খ্যাতনামা দার্শনিক ও বহুভাষাবিদ পন্ডিত। তোমরা জেনে অবাক হবে,
তিনি প্রায় সত্তরটি ভাষা জানতেন। আর যে কারণে আরবরা তাকে বলতো, ‘হাকিম
সিনা’ অর্থাৎ দ্বিতীয় আচার্য।

 

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

নাম- আবু নসর আল ফারাবী।
জন্ম- আনুমানিক ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু- ৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে।
বাসস্থান- তুর্কিস্তানের অন্তর্গত ফারাব নামক শহরের নিকটে আল ওয়াসিজ গ্রামে।

শিক্ষা জীবন- শিক্ষাজীবন শুরু করেন ফারাবায়। কয়েক বছর পর আরো শিক্ষার
উদ্দেশ্যে চলে যান বোখারার। আল ফারাবী উচ্চ শিক্ষার জন্যে গমন করেন
বাগদাদে। তিনি সেখানে প্রায় ৪০ বছর ধরে অধ্যায়ন ও গবেষণা চালিয়ে যেতে
থাকেন। কয়েকটি ভাষার উপর তিনি পূর্ণ দখল অর্জন করেন। তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের
বিভিন্ন শাখায় ছিলেন পারদর্শী। তবে দার্শনিক  বিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর খ্যাতি
ছাড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। জ্ঞানের সন্ধানে তিনি ছুটি গিয়েছেন দামেস্কে,
দেশ-বিদেশের আরো অনেক স্থানে পদার্থবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন,
যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভৃতিতে তিনি উল্লেখযোগ্য
অবদান রাখেন। মূলত দর্শন ও বিজ্ঞানে তাঁর অবদান সর্বাধিক। পদার্থ বিজ্ঞানে
তিনি শূন্যতার অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন। তিনি বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক হিসেবে
আরোহন করেছিলেন জ্ঞানের শীর্ষে।

 

রাজা সাইফ আদ দৌলা বিজ্ঞানী আল ফারাবীর সাক্ষাৎ পাননি। একবার ফারাবী
শাহী দরবারে উপস্থিত হন। ফারাবীকে নিকটে পেয়ে রাজা খুব খুশি হন। সেই সঙ্গে
ফারাবীর সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের দীর্ঘ আলোচনায় মেতে ওঠেন। দার্শনিক ফারাবীর
প্রজ্ঞায় রাজা মুগ্ধ হন। সম্মান দেখান তাঁর প্রতি। বিজ্ঞানী আল ফারাবী
রাজার সঙ্গী হিসেবে এখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র প্রভৃতি বিষয়ে বহু রচনা লিখেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় শতাধিক বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

তবে এ সকল অমূল্য অধিকাংশ গ্রন্থের সন্ধান মেলেনি। আল ফারাবীর লেখা ‘আলা
আহলে আল মদীনা আল ফাদিলা (দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত) গ্রন্থটি
সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কেও তাঁর লেখা কয়েকটি গ্রন্থ
তাঁকে বিখ্যাত করেছে।

 

অন্যতম অবদানসমূহ :
১.    পদার্থবিজ্ঞানে তিনি শূন্যতার অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন
২.    আলা আহলে আল মদীনা আল ফাদিলা (দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান) গ্রন্থ।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের ইতিহাসে আল ফারাবীর নাম আজো স্মরণীয়। মুসলিম জাতির
কল্যাণে তিনি যে মৌলিক আবিষ্কার রেখে গেছেন তা আমাদের জন্য দিক নির্দেশনা
বটে!

– সাদ আব্দুল ওয়ালী, প্রকাশিতব্য ছোটদের বিজ্ঞান মনীষা থেকে নেওয়া