বিজ্ঞানী জেমস ওয়াট


বিজ্ঞানী জেমস ওয়াট

kobid_58939322952db5edac67ee0.73126855_xlarge

বিজ্ঞান আজ আমাদের পৌঁছে দিয়েছে এক আধুনিক উৎকর্ষতার যুগে। হয়তো
আমরা অনেকে জানি না আধুনিক স্টীম ইঞ্জিনের আবিষ্কারক কে? তিনি হচ্ছেন
স্কটিশ পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ওয়াট। তিনি শিল্প সংক্রান্ত বিপ্লবের ক্ষেত্রে
ছিলেন প্রধান চরিত্র।

বিজ্ঞানীর জীবনে মজার ঘটনা
জেমস ওয়াটের বাবা ছিল একজন ঠিকাদার ও জাহাজ ব্যবসায়ী। মজার কথা, স্কুলের
পড়াশুনায় তার তেমন আগ্রহ ছিল না। অর্থাৎ তিনি নিয়মিত স্কুলে যেতেন না।
বেশিরভাগ সময় তাঁকে বাড়ীতে মায়ের কাছেই পড়াশুনা করতে হতো। কিন্তু স্কুলের
পড়াশুনা আগ্রহ না থাকলেও গণিতে ছিল তাঁর বিশেষ দক্ষতা। কে জানতো পরবর্তীতে
এই জেমস ওয়াট বিজ্ঞানের আবিষ্কারে পৃথিবীকে অবাক করে দিবে।

 

বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
এসো এবার এই বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নিইঃ

 

নাম- জেমস ওয়াট ।
জন্ম-১৯ জানুয়ারী ১৭৩৬ এবং মৃত্যু-২৫ আগস্ট ১৮১৯।
বাসস্থান- গ্রিনক, রেনফ্রশায়ার, স্কটল্যান্ড, জাতীয়তা-স্কটিশ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- গ্রিননক গ্রামার স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো।

 

জেমস ওয়াট ছিলেন সহজাত উদ্ভাবনীয় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি টমাস
নিউকমেন-এর ইঞ্জিন পর্যবেক্ষণ করে আরো উন্নত ও আধুনিক ইঞ্জিন তৈরির
পরিকল্পনা করে ফেলেন। ১৭৬৯ সালে তিনি নিজের প্রথম বাষ্পীয় ইঞ্জিন পেটেন্ট
করান। আলাদা কনডেন্সিং চেম্বার এবং স্টীম সিলিন্ডারও ছিল সেটার। এরপর ১৭৮২
সালে তিনি উদ্ভাবন করলেন ডবল অ্যাকশন ইঞ্জিন। পরে এটি আরো উন্নত ইঞ্জিনে
রূপান্তরিত করা হয়।

 

জেমস ওয়াট এর আগে ১৭৮১ সালে গিয়ার, ১৭৮৮ সালে সেন্ট্রিফিউগাল
(অপসরণশীল) পাম্প এবং ১৭৯০ সালে প্রেশার গজ (চাপ মাপক যন্ত্র), কাউন্টার,
ইন্ডিকেটর, থ্রটল, ভালভ্ ইত্যাদি আবিষ্কার করেন। ১৭৭৫ সালে তিনি ম্যাথিউ
বলটন নামে ইঞ্জিনিয়ারের সহিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর পরের বছর
দুজনে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন।

 

বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের কয়েকটি পর্যায় ছিল। জেমস ওয়াটের পূর্বে আরো
কয়েকজন যে সব ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু তার কোনটাই এককভাবে শিল্প
বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। সেক্ষেত্রে
বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিনের অবদান অগ্রগণ্য। এটি শিল্প
বিপ্লবের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করে।

কলকারখানা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিনের
ব্যবহার করা হয়। ১৭৮৩ সালে এই স্টিম ইঞ্জিন দিয়ে নৌ-যান চালানোর চেষ্টা
সফল হয়। এক্ষেত্রে জেমস ওয়াটই কৃতিত্বের দাবীদার।

অন্যতম অবদানসমূহঃ
১.    ১৭৮১ সালে গিয়ার, ১৭৮৮ সালে সেন্ট্রিফিউগাল (অপসরণশীল) পাম্প এবং
১৭৯০ সালে প্রেশার গজ (চাপ মাপক যন্ত্র), কাউন্টার, ইন্ডিকেটর, থ্রটল,
ভালভ্ ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
২.    আধুনিক স্টীম বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারক তিনি।

জীবিত থাকাকালীন সময়ে তাঁর এই আবিষ্কার যতটুকু সফলতা অর্জন করেছিল,
তাঁর মৃত্যুর পর বিজ্ঞানের জগতে ঘটে যায় আশাতীত ঘটনা। এই বাষ্পীয় ইঞ্জিনের
গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে জেমস ওয়াটের আবিষ্কৃত এই বাষ্পের
শক্তিকে ব্যবহার করে যানবাহন চালানোর চিন্তা নিয়ে গবেষণা করেন ফ্রান্সের
নিকোলাস কুনো নামের এক ইঞ্জিনিয়ার এবং এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ইঞ্জিন
তৈরি করেন। সেই ইঞ্জিনের সাহায্যে গাড়ি নির্মাণ করেন

Advertisements

ফুয়েল সেল আবিষ্কারের ইতিকথা


ফুয়েল সেল আবিষ্কারের ইতিকথা

image_532_74601

বর্তমানে বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে। আর ফুয়েল সেল এই নবায়নযোগ্য জ্বালানীরই একটি মাধ্যম। কিন্তু কিভাবে আবিষ্কৃত হলো এই ফুয়েল সেল।

ফুয়েল সেল হচ্ছে এক প্রকার রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুত-প্রবাহ
সৃষ্টিকারী যন্ত্র। ১৮৩৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রেড্রিক স্কোবিয়েন প্রথম
ফুয়েল সেল এর নীতি আবিষ্কার করেন। ১৮৩৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সৌখিন
বিজ্ঞানী এবং ব্যারিস্টার স্যার উইলিয়াম রর্বাট গ্রোভ ফুয়েল সেল এর
মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন। তবে
বাণিজ্যিকভাবে প্রথম বারের মতো ফুয়েল সেল এর ব্যবহার শুরু হয় ১৯৫৮ সালে।
ফুয়েল সেল এর রাসায়নিক উপাদান প্রতিবার ব্যবহার করা যায়। কারণ, ফুয়েল
সেল এক প্রকার নবায়ানযোগ্য জ্বালানীর মাধ্যম। ফুয়েল সেল এর প্রধান
রাসায়নিক উপাদান হল হাইড্রোজেন  এবং বাতাস থেকে প্রাপ্ত আক্সিজেন। তাছাড়া
আন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে হাইড্রকার্বন যৌগ যেমন এলকোহল ব্যাবহার
করা হয়।  বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল সেল পাওয়া যায় এবং এটা নির্ভর
করে রাসায়নিক উপাদানের উপর।   ফুয়েল সেল এর রাসায়নিক উপাদান ভিন্নতার
জন্য বিভিন্ন প্রকারের নামকরন করা হয়। আর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যেমনঃ
১) প্রোটোন বিনিময়কারী ফুয়েল সেল, ২) প্রত্যক্ষ ব্যবহৃত মিথানল ফুয়েল
সেল অথবা মিথানল ফুয়েল সেল, ৩) সলিড অক্সাইড ফুয়েল সেল, ৪) বিগলিত
কার্বনেট ফুয়েল সেল, ৫) এলকালাইন বা ক্ষারধর্মী ফুয়েল সেল ইত্যাদি।
বর্তমানে অটোমোবাইল ছাড়াও বিভিন্ন বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতিসমূহ
ল্যাপটপ, ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ইত্যাদিতে ফুয়েল সেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে গবেষকগণ এই ফুয়েল সেল চালিত বিদ্যুত উৎপাদনের কাজ শুরু করেছেন।

সূর্য্যের ঘুর্ণন


151220-004-CA06CC8Aছোট বন্ধুরা,তোমরা জান যে পৃথিবী সূর্য্যের চারদিকে ঘোরে আর জান সূর্য্য চুপটি করে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পৃথিবীর ঘোরা দেখে;তাই কি?আসলে কিন্তু তা নয়।সূর্য্যও ঘুরছে।শুনে আশ্চর্য হচ্ছো খুব!এবার তাহলে শোনো কিভাবে ঘোরে তার গল্প:পৃথিবী ও সূর্য্য দুটি ভিন্ন বস্তু।একটি জলন্ত তারকা আর অপরটি তার গ্রহ আমাদের আপন পৃথিবী;দুটি আলাদা হবার কারনে এদের ঘুর্ণন কিছুটা আলাদা।পৃথিবী কিভাবে ঘোরে তা তোমরা অনেকেই জানো;লাটিমের মত নিজে ঘুরতে ঘুরতে একস্হানে স্হীর না থেকে কোটি কোটি মাইল দূর থেকে আমাদের পৃথিবীটা সূর্য্যকে চক্কর দেয়।এটি সম্পন্ন হতে একটি বছর লেগে যায়।আর সূর্য্য ঘোরে একজায়গায় দাড়িয়ে লাটিমের মত। এটিও শোনা যায় যে সূর্য্য ঘোরে বিঘা নামের একটি নক্ষত্রকে কে ঘিরে,কিন্তু এটি এখনও প্রমানীত নয়।মনে রেখো বন্ধুরা,এই মহাবিশ্মে কোন কিছু আসলে স্হীর নয়;সবাই ঘুরছে… বন্ধুরা, আরো অনেক কিছু তোমাদের জানাবো ধীরে ধীরে